প্রচ্ছদ > খেলা > ফুটবল

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে বিশ্বকাপে গোল, তবু রাউল কাঁদলেন ভিন্ন কারণে

article-img

নভেম্বর ২০২০। সেদিন নিশ্চয়ই যমদূতকে খুব কাছে থেকে দেখে ফেলেছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেঁচে বর্তে ফেরাটাই তো সেলুলয়েডের ফিতায় জায়গা পাওয়ার মতো একটা গল্প। এরপর বিশ্বকাপের ম্যাচে নিজ দর্শকদের সামনে নায়ক বনে যাবেন, এমনটা কেইবা কল্পনা করে? বৃহস্পতিবার রাতে সে চক্রটাই পূরণ হয়েছে রাউল হিমেনেজের।

২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। ৬৭ মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর ক্রসে হেডে দ্বিতীয় গোলটি করেন হিমেনেজ। গোলটা করে অবশ্য নিজের অতীত স্মরণ করেননি তিনি। করেছেন খুব কাছের মানুষ, তার বাবাকে যিনি গেল মার্চেই না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। 

গোল করে সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দিকে আঙুল তুলে দেন তিনি। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। আকাশের দিকে সেই আঙুল ছিল তার বাবার উদ্দেশে। এ বছরের মার্চে মারা গেছেন তার বাবা রাউল হিমেনেজ ভেগা।

তবে হিমেনেজের এই মঞ্চে আসার পথ তো বটেই, বেঁচে থাকার পথটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল বছর ছয়েক আগে। আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে ভয়াবহ মাথায় মাথায় সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান হিমেনেজ। মাথার খুলি ফেটে যায়। মাঠেই অক্সিজেন দিতে হয় তাকে। সতীর্থ, কোচ, পরিবার — সবাই তখন আতঙ্কে। তিনি বেঁচে আছেন কিনা সেটাই ছিল প্রশ্ন।

চোটের পর ছয় মাস অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি হিমেনেজ। আট মাস পর মাঠে ফিরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে প্রথম গোল করেন। এখনো মাথায় বিশেষ হেডব্যান্ড পরে খেলতে হয় তাকে।

সেই ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর ৩৫ বছর বয়সী হিমেনেজ বিশ্বকাপে গোল করলেন। আর সেটা নিজের দেশে, ৮০ হাজার দর্শকের সামনে, বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে।

আজতেকায় এই গোল দিয়ে মেক্সিকোর সর্বকালের গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠেছেন হিমেনেজ। ১২৫ ম্যাচে ৪৬ গোল তার। শুধু হাভিয়ের হার্নান্দেজ তার উপরে, ৫২ গোল নিয়ে।


আরো খবর